ভূমিকম্প-সহনশীল বিল্ডিং ম্যাটেরিয়াল: বাংলাদেশে কোন উপকরণ সবচেয়ে নিরাপদ (২০২৫ গাইড)
বাংলাদেশ ভূমিকম্প ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। বিশেষ করে সিলেট, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, রংপুর ও ঢাকা এলাকায় ভূমিকম্পের ঝুঁকি বেশি। তাই বাড়ি বা বিল্ডিং নির্মাণের সময় ভূমিকম্প-সহনশীল উপকরণ ব্যবহার করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
এই
লেখায়
আমরা
সহজ
ভাষায়
জানবো—কোন কোন নির্মাণ উপকরণ
ভূমিকম্পের সময়
বিল্ডিংকে বেশি
নিরাপদ
রাখে।
১. রিইনফোর্সড কংক্রিট (RCC)
বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি
ব্যবহার হওয়া
ভূমিকম্প-সহনশীল
উপকরণ
হলো
RCC ।
✔
কংক্রিট চাপ
সহ্য
করে
✔ স্টিল টেনশন
(টান)
সহ্য
করে
✔ দুটো মিলে
ভবনকে
শক্ত
ও
নমনীয়
করে
তোলে
কোথায় ব্যবহার:
বাড়ি,
অফিস,
স্কুল,
মার্কেট—সব
ধরনের
ভবনে।
২. স্ট্রাকচারাল স্টিল (I-beam, H-beam, Angle, Channel)
স্টিল
ভূমিকম্পের সময়
বেঁকে যায় কিন্তু ভাঙে না—এটাই
এর
সবচেয়ে ভালো
গুণ।
✔
খুব
বেশি
শক্ত
✔ নমনীয়
✔ ভবনকে কম
কম্পন
অনুভব
করায়
বাংলাদেশে এখন
অনেক
আধুনিক
ভবন
স্টিল
স্ট্রাকচারে তৈরি
করা
হচ্ছে।
৩. রিইনফোর্সড ব্রিক ম্যাসনারি (RMB)

রিইনফোর্সড ব্রিক ম্যাসনারি (RMB)
বাংলাদেশে ইটের
ব্যবহার খুব
বেশি,
তাই
ইটের
ঘরকে
ভূমিকম্প-সহনশীল
করতে
হয়—
✔
কলাম
✔ বন্ড বিম
✔ সঠিক রড
ব্যবহার
✔ ভালো মানের
সিমেন্ট-মর্টার
এগুলো
করলে
ইটের
দেয়াল
দ্রুত
ভেঙে
পড়ে
না।
৪. বেস আইসোলেশন সিস্টেম (Base Isolation)
এটি
সাধারণত বড়
বিল্ডিং, হাসপাতাল বা
সরকারি
ভবনে
ব্যবহৃত হয়।
✔
বিল্ডিংকে মাটির
নড়াচড়া থেকে
আলাদা
রাখে
✔ কম্পন কম
অনুভূত
হয়
✔ বড় ভূমিকম্পেও ভবন
টিকে
থাকে
বিশ্বে নতুন
বড়
প্রোজেক্টগুলোতে এটি
ব্যবহার বাড়ছে।
৫. রিইফাইবার রেইনফোর্সড পলিমার (FRP)
পুরনো
বিল্ডিং শক্তিশালী করতে
FRP খুব
কার্যকর।
✔
খুব
হালকা
✔ খুবই শক্ত
✔ কলাম বা
বীমের
চারপাশে লাগানো
হয়
✔ ভূমিকম্পে ভেঙে
পড়ার
ঝুঁকি
কমায়
বাংলাদেশে রেট্রোফিটিং কাজেই
এটি
ব্যবহার হচ্ছে।
৬. শক অ্যাবজর্ভার বা ড্যাম্পার
যেমন
গাড়ির
শক
অ্যাবজর্ভারের মতো—
✔
কম্পন
শোষণ
করে
✔ যান্ত্রিক শক্তিকে তাপে
রূপান্তর করে
✔ ভবনের দুলুনি
কমায়
উচ্চ
ভবনে
বেশি
ব্যবহৃত হয়।
৭. ইঞ্জিনিয়ারড ব্যাম্বু (Bamboo)
গ্রামীণ এলাকায়
বা
লো-কস্ট নির্মাণে খুব
উপযোগী।
✔
নমনীয়
✔ ভাঙে না
✔ ওজন কম
✔ ভূমিকম্পে নড়লেও
ধসে
পড়ে
না
এটি
পরিবেশ-বান্ধবও।
৮. হাই-পারফরম্যান্স কংক্রিট (HPC)
সাধারণ
কংক্রিটের চেয়ে
অনেক
শক্তিশালী।
✔
কম
ফাটল
✔ বেশি স্থায়িত্ব
✔ ভারশক্তি বেশি
বাংলাদেশে ব্রিজ,
বড়
বিল্ডিং, ফ্লাইওভারে ব্যবহৃত হয়।
৯. জিওসিনথেটিক ম্যাটেরিয়াল
ফাউন্ডেশন বা
ঢাল
শক্তিশালী করতে
খুব
কার্যকর।
✔
মাটি
শক্ত
করে
✔ ভূমিধস কমায়
✔ মাটি বসে
যাওয়া
কমে
✔ ভূমিকম্পের সময়
ভবন
কম
দোলে
এতে
জিওটেক্সটাইল, জিওগ্রিড, জিওসেল
ব্যবহৃত হয়।
১০. লাইটওয়েট ম্যাটেরিয়াল
যেমন—AAC
Block, Hollow Block।
✔
ভবনের
ওজন
কম
হয়
✔ কম ওজন
মানেই
কম
ক্ষতি
✔ ভূমিকম্পে চাপ
কম
পড়ে
বাংলাদেশে AAC ব্লক
ব্যবহার দ্রুত
বাড়ছে।
⭐ বাংলাদেশে ভূমিকম্প-সহনশীল নির্মাণের আরও কিছু টিপস
- BNBC (বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড) অবশ্যই অনুসরণ করুন
- সফট-স্টোরি বিল্ডিং এড়িয়ে চলুন
- ভালো মানের রড ও সিমেন্ট ব্যবহার করুন
- দক্ষ ইঞ্জিনিয়ার
দ্বারা ডিজাইন করান
- সাইটে সঠিক মান নিয়ন্ত্রণ
বজায় রাখুন
⭐ উপসংহার
সঠিক
বিল্ডিং ম্যাটেরিয়াল ব্যবহার করলে
বড়
ভূমিকম্পেও বাড়ি
ও
বিল্ডিং অনেক
বেশি
নিরাপদ
থাকে।
বাংলাদেশে RCC, স্টিল,
ইটের
রিইনফোর্সমেন্ট, FRP এবং
বেসআইসোলেশন সিস্টেমই সবচেয়ে কার্যকর উপকরণ।









No comments